১৮ মাস বন্ধ থাকার পর শনিবার সকালে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়ন কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। তবে বিকেলে পতাকা নামিয়ে কার্যালয়টিকে গণশৌচাগার ঘোষণা করেছেন ‘জুলাই ঐক্য বকশীগঞ্জ’ নামে একটি সংগঠনের নেতা–কর্মীরা। সন্ধ্যার দিকে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাতটার দিকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাজ্জাদ কাদিরের নেতৃত্বে পরিত্যক্ত কার্যালয়টিতে সাইনবোর্ড ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিকেল পাঁচটার দিকে ‘জুলাই ঐক্য বকশীগঞ্জ’ আন্দোলনকারী সংগঠন কার্যালয়ে গিয়ে সাইনবোর্ড ও জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলে। এরপর সাইনবোর্ডে আগুন দেওয়া হয় এবং কার্যালয়টিকে গণশৌচাগার হিসেবে ঘোষণা করে ব্যানার লাগানো হয়।
জুলাই আন্দোলনের শহিদুল ইসলাম জানান, “আজকের পর বগারচর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা বা কর্মী দলীয় কার্যালয় খোলার দুঃসাহস দেখালে তাঁদের যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। ওই কার্যালয়কে পাবলিক টয়লেট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।”
অন্যদিকে, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির নেতা–কর্মীরা বগারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে সারমারা বাজার থেকে মিছিল বের হয়।
মিছিলের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম। এ সময় বগারচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা ও দলীয় নেতা–কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। মিছিলটি সারমারা বাজার প্রদক্ষিণ করে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে এক পথসভায় বক্তারা বলেন, “দেশবিরোধী আওয়ামী লীগ আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাচ্ছে। তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কিন্তু শহীদ জিয়ার সৈনিক থাকায় কোনো অপশক্তিকে ষড়যন্ত্র করতে দেওয়া হবে না।”