জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও নারী দলের সাবেক নির্বাচক এবং ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম-কে ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেটের কোনো কার্যক্রমে সম্পৃক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আজ বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের এক ভার্চ্যুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিসিবির আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।

অভিযোগ ও তদন্ত প্রক্রিয়া

এর আগে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী নারী দলের ক্রিকেটার জাহানারা আলম এক সাক্ষাৎকারে মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন। পরবর্তীতে বিসিবি একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করলে জাহানারা সেখানে লিখিতভাবেও একই অভিযোগ দাখিল করেন।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, তদন্ত কমিটি অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। জাহানারার করা চারটি নির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে দুটি অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না মিললেও বাকি দুটি অভিযোগে অসদাচরণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মঞ্জুরুল ইসলামের কিছু আচরণ পেশাদার মানদণ্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কিছু কর্মকাণ্ড সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকার আওতায় অসদাচরণ ও হয়রানির সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে।

তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই আজকের ভার্চ্যুয়াল বোর্ড সভায় তাকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনোভাবে সম্পৃক্ত না করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

বর্তমান অবস্থান

বর্তমানে Asian Cricket Council (এসিসি)-তে কর্মরত মঞ্জুরুল ইসলাম গত বছরের ৩০ জুনের পর থেকে বিসিবির কোনো দায়িত্বে নেই।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে হোয়াটসঅ্যাপে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

তৌহিদ মাহমুদ প্রসঙ্গ

জাহানারা আলম বিসিবির নারী উইংয়ের প্রয়াত ইনচার্জ তৌহিদ মাহমুদ-এর বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছিলেন। তবে বিসিবির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত কমিটি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি।