নিজস্ব প্রতিবেদক: শেরপুরের নকলা উপজেলায় পতিত জমি ও বাড়ির আঙিনায় ভোজ্য ও ঔষধি তেলবীজ ফসল সূর্যমুখী চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। স্বল্প খরচ, কম শ্রম এবং অল্প সময়েই লাভজনক ফলন পাওয়ার কারণে কৃষকদের মধ্যে এ ফসলের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সূর্যমুখী চাষে প্রতি শতাংশ জমিতে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হলুদ রঙের সূর্যমুখী ফুলের খেত দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য তৈরি করেছে। এই ফুল দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সী মানুষ ভিড় করছেন কৃষকদের খেতে।
কৃষি বিভাগের উদ্যোগ
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, নকলার মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সূর্যমুখী চাষের প্রদর্শনী করা হয়েছে।
চলতি রবি মৌসুমে উপজেলার ছয়টি ব্লকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর আওতায় “বাংলাদেশ চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত)” এর মাধ্যমে সাতটি কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। লয়খা ব্লকে দুটি এবং চন্দ্রকোনা, চরমধুয়া, বাছুর আলগা, কাজাইকাটা ও চরভাবনা ব্লকে ৩৩ শতাংশ করে জমিতে একটি করে প্রদর্শনী করা হয়েছে।
প্রায় ২ হেক্টর জমিতে চাষ
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হেক্টর জমিতে ৮ থেকে ১০ জন কৃষক-কৃষাণী সূর্যমুখী চাষ করেছেন। গত বছরের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে এল.টি. সানফ্লাওয়ার-১ জাতের বীজ বপন করা হয়। বর্তমানে অধিকাংশ খেতে ফুল ফুটেছে এবং কিছু খেতে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বীজ ধরেছে।
লয়খা গ্রামের কৃষক ফখরুল হাসান জানান, তিনি তার বাড়ির আঙিনার ৩৩ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন এবং বীজের অবস্থা দেখে ভালো ফলনের আশা করছেন। তিনি বলেন, কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। আগে ওই জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছিল, পরে সেখানে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে।
তবে বাজারজাতকরণের সুযোগ কম থাকায় অনেক কৃষক সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হলেও কিছুটা দ্বিধায় রয়েছেন।
কৃষি কর্মকর্তাদের পরিদর্শন
খেত পরিদর্শন করেছেন জেলা উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবদুল ওয়াহেদ খান, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তাবাসসুম মকবুলা দিশা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফারিহা ইয়াসমিন ও কৃষিবিদ সাগর চন্দ্র দে।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাগর চন্দ্র দে জানান, পতিত জমিতে সূর্যমুখী চাষের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় অনেক কৃষক এখন তেলবীজ ফসল হিসেবে সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকছেন।
স্বাস্থ্যগত উপকারিতা
পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যমুখী তেল মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে এবং লিনোলিক অ্যাসিড হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরলমুক্ত এই তেল শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও সহায়ক।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, সূর্যমুখী তেল স্বাস্থ্যসম্মত এবং নিয়মিত ব্যবহারে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।