ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, ‘পরিকল্পনা আছে’—বললেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১১৫ ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেন, “সবকিছুর জন্য আমার একটি পরিকল্পনা আছে। আপনারা খুব খুশি হবেন।” তবে তিনি তার পরিকল্পনার বিস্তারিত কিছু জানাননি।

যুদ্ধের প্রভাবেই দাম বৃদ্ধি

গত শনিবার ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেল-এর দাম এক পর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২২ সালে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়।

তবে পরে তা কিছুটা কমে ১০০ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাই মূলত এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ। স্বাভাবিক সময়ে এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়।

‘পেট্রোলের দাম বাড়লেও অভিযান গুরুত্বপূর্ণ’

যুক্তরাষ্ট্রে পাম্পে তেলের দাম বাড়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে। তিনি বলেন, “যদি দাম বাড়ে, তবে বাড়ুক। পেট্রোলের দাম কিছুটা বাড়ার চেয়ে এই অভিযান অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

সমালোচনার মুখে ট্রাম্প

সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, এই যুদ্ধ শুরু করার কারণ বা লক্ষ্য সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসন জনগণ বা আইনপ্রণেতাদের কাছে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।

মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধটি প্রায় শেষের পথে। “আমরা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছি,” বলেন তিনি।

তবে কিছুক্ষণ পরই তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে অভিযান আরও জোরদার করতে পারে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি পারস্য উপসাগরে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে বাধা দেওয়া অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেবে।