শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে কথিত সাংবাদিক মারুফুর রহমান ফকির (৪৭)সহ তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে আদালতে সোপর্দের পর বুলবুল আহমেদ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক, তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো অন্য দুইজন হলেন শহরের নারায়ণপুর এলাকার সুমন কুমার দে’র ছেলে সজীব কুমার দে (২৫) এবং সদর উপজেলার বামনেরচর এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে মো. জাহিদুল (২৫)। এ মামলার আরেক আসামি তমাল (৩৮) পলাতক রয়েছেন।
চাঁদা দাবির অভিযোগ
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে শহরের মধ্যশেরী এলাকার সৈয়দ আব্দুল্লাহেল হাদী ও সৈয়দা হেলেনা হাদী দম্পতির বাসায় প্রবেশ করেন মারুফুর রহমান, সজীব কুমার দে ও জাহিদুল। এ সময় তারা বাসায় অবৈধ মালামাল রয়েছে বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভিডিও ধারণ করেন এবং সৈয়দা হেলেনা হাদীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, টাকা না দিলে তাদের ছেলেকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। এ সময় হেলেনা হাদী চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এসে তাদের আটক করেন এবং পরে পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
মামলার তথ্য
ঘটনার পর সৈয়দা হেলেনা হাদী বাদী হয়ে শেরপুর সদর থানা-য় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ভয়ভীতি দেখিয়ে তিন লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মারুফুর রহমান শহরের নারায়ণপুর মহল্লার বাসিন্দা এবং সদর উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের শেরপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন বলে জানা গেছে।
আগেও একাধিক অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মারুফুর রহমানের বিরুদ্ধে আগে থেকেও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। ঝিনাইগাতীতে একটি নির্মাণাধীন বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে আগে আটক করা হয়েছিল এবং ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতোমধ্যে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।
এছাড়া শহরের এক ব্যবসায়ী রেজাউল করিমকে অপহরণ করে নেত্রকোনার দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় হত্যার একটি মামলায়ও তিনি এজাহারভুক্ত আসামি বলে জানা গেছে। এর আগে এক কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় র্যাব-এর হাতে গ্রেফতার হয়ে হাজতবাসও করেছিলেন।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে মো. সোহেল রানা, শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), বলেন—চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার বিকেলে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।