এশিয়া প্রাইম নিউজ
প্রকাশ : Feb 21, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

হারবাল ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা তৈরির মিনিল্যাব চালাতেন শিমুল

স্থানীয়ভাবে হারবাল ব্যবসায়ী ও কেমিস্ট হিসেবে পরিচিত তৌহিদুজ্জামান ওরফে শিমুল (৩২)। তবে পরবর্তীতে বদলে যায় পেশার ধরন। স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফার আশায় অবৈধ মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন তিনি। গাজীপুরের টঙ্গীর বাসায় তিনি গোপনে গড়ে তোলেন ইয়াবা তৈরির ল্যাব।


এদিকে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে সাড়ে চার হাজার ইয়াবা, ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল, সরঞ্জামসহ ল্যাবের মালিক শিমুলকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকার গোয়েন্দারা।

অধিদপ্তরটি বলছে, প্রাথমিকভাবে ডিজিটাল মেশিনে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, জব্দ করা বড়িগুলো অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা বড়ি।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে গোপন খবরের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের গোয়েন্দারা ক্রেতা সেজে টঙ্গী পূর্ব থানার বসুন্ধরা কাজীবাড়ি পুকুরপাড়ে খলিলুল্লাহ রোডের তোহিদুজ্জামানের ভাড়া বাসায় যান। এ সময় তোহিদুজ্জামান তাদের কাছে পাঁচ হাজার ইয়াবা বিক্রি করতে রাজি হন। এক পর্যায়ে তোহিদুজ্জামানকে আটক করা হয় এবং তার পাশের টেবিলে রাখা ইয়াবা ও বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন গোয়েন্দারা।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তোহিদুজ্জামান গোয়েন্দাদের বলেন, টেবিলের রাখা বড়িগুলো ইয়াবা এবং উপকরণগুলো হচ্ছে ইয়াবা তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল ও সরঞ্জাম। এ সময় তোহিদুজ্জামানের শরীর তল্লাশি চালিয়ে ও শোবার ঘর থেকে সাড়ে চার হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কর্মকর্তা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান জানান, অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফের নির্দেশে মাদক কারবারিদের নির্মূলে অধিদপ্তরের গোয়েন্দা বিভাগ তৎপর হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তোহিদুজ্জামান জানান, গাজীপুরের পুবাইলে তিনি একটি আয়ুর্বেদিক ল্যাবরেটরিজে কেমিস্ট হিসেবে চাকরি করতেন। সেখানে বিভিন্ন ধরনের ডায়েসে ট্যাবলেট বানানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চার মাস আগে তিনি ইয়াবা প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করেন। আয়ুর্বেদিক প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি একটি আয়ুর্বেদিক দোকানও দিয়েছিলেন। তার বাসা থেকে জব্দ করা কাঁচামাল দিয়ে ১৫-২০ হাজার ইয়াবা তৈরি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, তোহিদুজ্জামান ৫০০ ইয়াবা কিনে সেগুলো গুঁড়া করে তাতে রং, কেমিক্যালসহ বিভিন্ন উপকরণ মিশিয়ে তা দিয়ে পাঁচ হাজার ইয়াবা তৈরি করেন। এসব ইয়াবা তিনি গাজীপুর, ঢাকা ও সাভারে তাঁদের চক্রের সদস্যদের কাছে পাইকারি বিক্রি করতেন।

তিনি আরও বলেন, ইয়াবা প্রস্তুত ও বাজারজাতের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রের সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তাদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।

মন্তব্য করুন

0/600
ℹ️ মন্তব্য এই ব্রাউজারে (LocalStorage) সেভ হবে — সার্ভার রুট না থাকলে এটা কাজ করবে

সাম্প্রতিক মন্তব্য (0)

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নকলায় সূর্যমুখী চাষে নতুন সম্ভাবনা, কম খরচে লাভের আশা কৃষকদে

1

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব দেশের জন্য ১০% বৈশ্বিক শুল্ক: হোয়াইট

2

সাংবাদিকদের দ্রুত অ্যাক্রিডিটেশন প্রদানের আহ্বান অনলাইন এডিট

3

আমাদের জীবিত কিংবদন্তি দিলারা জামান...

4

শেরপুরে জমি বিরোধে সংবাদ সম্মেলন, দখলচেষ্টা ও মিথ্যা মামলার

5

আজ থেকে অনলাইনে যাত্রা শুরু করলো কৃষক বাড়ি

6

ব্রেন টিউমার অপারেশনের পর বাসায় ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি

7

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের আমিরের উদ্

8

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম ৩ বছরের সর্বোচ্চ, ‘পরিকল্পনা

9

বিশ্বকাপ নিয়ে রিভালদোর সঙ্গে তর্কে জড়ালেন নেইমার

10

প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা পুনর্মূল্যায়নে ১৭ সদস্যের কমিট

11

নালিতাবাড়ীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর ব্যবসায়ীদের হামলা

12

জাহানারার অভিযোগে তদন্তের সময় বাড়াল বিসিবি

13

contact us

14

প্রথমবারের মতো তেজগাঁও কার্যালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তা

15

আরও ১৪ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব

16

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে: ইরান দৃঢ় অবস্থান

17

এতিমদের সম্মানে এমপি রাশেদের ইফতার

18

ইরানকে সমর্থন চীনের, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে হামলা বন্ধের আহ্

19

সাংবাদিকতা পেশায় রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার: সংস্কার কমি

20